বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
পাবনায় মৃত ব্যাক্তির নামে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার অভিযোগ পত্র তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ পুনঃ তদন্তের দাবি Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
পাবনায় মৃত ব্যাক্তির নামে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাবনা সদর থানার ওসি তদন্ত সঞ্জয় কুমার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। এটা গাফলতি না অনিচ্ছাকৃত ভুল না মামলা সুষ্ঠ তদন্তের অভাব জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা যায়, গত ১১ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে পাবনা সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলা নং-০৫, জিআর মামলা নং-৫০৩/২০২৪ পাবনা, ধারা-১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩২৬/৩০৭/৩২৬/৩০২/১১৪/৩৪ দন্ডবিধি।
মামলাটি তদন্ত করে চার্যশিট প্রদান করেন ওসি তদন্ত সঞ্জয় কুমার। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং তারিখে ১৩৬জনকে আসামী করে ৪৭২নং অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। অভিযোগ পত্রে ১১৪ নং আসামীর তালিকায় মোঃ নাছিম শেখ (৪৮) নামে একজন মৃত ব্যাক্তিকে আসামী করা হয়। মৃত নাছিম পাবনা আতাইকুলা থানার লোহাগড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মোমিনের ছেলে। নাছিম শেখের মায়ের নাম মোছাঃ আছিয়া বেগম। চার্যশিট প্রদানের ৩মাস পুর্বে নাছিম শেখ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। নাছিমের মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর-১৯৭৭৫৯১৭৪১৩১০২২৩৩, তাং-০২-০৭-২০২৫ইং। নাছিম গত ২০২৫ সালের ২৬ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মৃত ব্যাক্তির নামে চার্যশিট প্রদান করায় পুরো তদন্ত কার্যক্রমকে বির্তকিত করে তুলেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট সন্ত্রাসী আবু সাঈদ ও তার সঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ২ ছাত্র জাহিদ ও নিলয়। এরমধ্যে নিহত জাহিদের বাবা চরবলরামপুর গ্রামের দুলাল উদ্দিন মাষ্টার বাদী হয়ে ১০৩জনের নাম উল্ল্যেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো আসামী উল্ল্যেখ করে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি সঞ্জয় ও পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুস সালাম একাধিক নিরপরাধ ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করে এই মামলায় অন্তভুক্ত করেন। এরমধ্যে একজন পেশাদার সাংবাদিকও রয়েছেন। ওই সাংবাদিক জাতিয়াতাবাদী রাজনীতির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। বাদী দুলাল মাষ্টার সাংবাদিককে দায়মুক্তি দিয়ে হলফ নামা ও প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছে। বিভিন্ন সুত্র জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি তদন্ত সঞ্জয় কুমার মামলা তদন্তকালে গ্রেফতার বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর চাহিদামত টাকা দিতে অপরাগত প্রকাশ করলেই বৈষম্যবিরোধী মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মৃত মানুষের নামে অভিযোগপত্র প্রদানের ঘটনা। মৃত মানুষের নামে অভিযোগ পত্র দেওয়ায় মামলার সুষ্ঠ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য পাবনার সচেতন নাগরিকসহ ভুক্তভোগীরা জোর দাবি জানিয়েছেন। মৃত মানুষের নামে অভিযোগ পত্রের ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় পাবনা আদালত পাড়াসহ জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলার আরেক এজাহার নামীয় আসামী ক্যানি ঢাকায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন।